পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, আই-প্যাক ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব জগন্নাথ সরকার
রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভোট কুশলী সংস্থা আই-প্যাককে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব এবং রানাঘাট দক্ষিণ—দুটি পৃথক বিধানসভা কেন্দ্রের পোস্টাল ব্যালট একই ব্যালট বাক্সে জমা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংসদ জগন্নাথ সরকার দাবি করেছেন, এটি কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তাঁর অভিযোগ, সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা ভোট না দিয়েই ফিরে যান। পাশাপাশি বিজেপির প্রাপ্ত ভোট কমানোই এর মূল লক্ষ্য বলেও দাবি তাঁর।
সাংসদের আরও অভিযোগ, আই-প্যাকের নির্দেশে এলাকায় এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করা হচ্ছে। বিজেপির এজেন্টদের বুথ বা সংলগ্ন এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি প্রবীণ ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়ে বা জোরপূর্বক ভোট আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ সরকার। কোথাও কোথাও পোস্টাল ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁর বক্তব্য।
এই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের অভিযোগ তুলে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাংসদ।
অন্যদিকে, বিজেপির এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন সাংসদ। তৃণমূলের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, এটি ‘শিশুসুলভ আচরণ’ ছাড়া কিছুই নয়।
পোস্টাল ব্যালটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক চাপানউতোর যে আগামী দিনে আরও তীব্র আকার নেবে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


