ভোটের আগে ‘ড্রাই ডে’ ঝড়—রাজ্যজুড়ে আগাম মদের দোকান বন্ধে তোলপাড় রাজনীতি!

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে মদের দোকান আগাম বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ জারি হতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যকর করা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামী ২৩ তারিখ উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদেও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেই কারণেই ভোটপর্বকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ভোটের ৯৬ ঘণ্টা আগে মদের দোকান বন্ধ করার বিধি রয়েছে, তবে এবারের পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতা হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
এই হঠাৎ নির্দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। বিশেষ করে, কবে ফের খুলবে মদের দোকান—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও সরকারি ঘোষণা না থাকায় জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। একাংশের ধারণা, উত্তরবঙ্গের ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পর সাময়িকভাবে দোকান খুলতে পারে প্রশাসন। আবার দক্ষিণবঙ্গের ভোট ঘনিয়ে এলে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে। ফলে গোটা পরিস্থিতি এখন অনিশ্চয়তার আবহে মোড়া।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রাজ্যের একাংশ সুরাপ্রেমী। নিয়মিত মদ্যপানকারীদের অনেকেই আচমকা এই নিষেধাজ্ঞায় সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ করছেন। বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ রসিকতার ছলেও বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে—যদিও সেই দাবি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবে বিরোধী সুরের পাশাপাশি সমর্থনের আওয়াজও কম নয়। সুশীল সমাজের বড় একটি অংশ নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলেই মনে করছে। তাদের যুক্তি, অতীতে বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, নির্বাচনের আগে মদকে কেন্দ্র করে অশান্তি, সংঘর্ষ এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ভোটকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে প্রশাসন।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মদের দোকান বন্ধের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান, মানুষের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক মহলের পাল্টাপাল্টি মন্তব্য—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। এখন দেখার, ভোটপর্ব মিটলে কত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং মদের দোকান খোলার বিষয়ে প্রশাসন কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

(ছবি, AI)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *