ভোটের আগে নবদ্বীপে বড়সড় ভাঙন! তৃণমূল-সহ একাধিক দল ছেড়ে বিজেপিতে শতাধিক পরিবারের যোগদান
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। তার আগেই নদীয়ার নবদ্বীপ বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। প্রচারের শেষ লগ্নে তৃণমূল কংগ্রেস-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন শতাধিক পরিবারের সদস্যরা—এমনটাই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
রবিবার নবদ্বীপের কালিনগর, জোয়ানিয়া এবং হুলোরঘাট এলাকায় বিজেপির উদ্যোগে একাধিক নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভাগুলিতেই দলত্যাগী পরিবারগুলির হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বহুদিন ধরেই এই পরিবারগুলি বর্তমান শাসকদলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিল দলবদলের।
দলত্যাগীদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। রাস্তা, নিকাশি, পানীয় জল থেকে শুরু করে বিভিন্ন মৌলিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত বলে দাবি করেন। বিশেষ করে সরকারি আবাসন প্রকল্পে ঘর না পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। সেই অসন্তোষই শেষ পর্যন্ত দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
যোগদানকারীদের মধ্যে অনেকেই জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাজের প্রতি আস্থা রেখেই তারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাদের আশা, আগামী দিনে এলাকায় উন্নয়ন ও পরিষেবা পৌঁছাবে আরও দ্রুত।
অন্যদিকে, এই দলবদলকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা। ভোটের ঠিক আগে এমন বড় আকারের যোগদান কতটা প্রভাব ফেলবে নির্বাচনের ফলে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল সাধারণ ঘটনা হলেও, সংখ্যার নিরিখে তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যদি তা একাধিক এলাকায় ছড়িয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয় স্তরে সংগঠনের সমীকরণে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন নজর ২৯ এপ্রিলের ভোটে। নবদ্বীপের এই দলবদলের প্রভাব কতটা পড়বে ভোটবাক্সে, সেটাই দেখার।


