“লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে কটাক্ষ থেকে নীতির পাল্টা লড়াই! ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ ঘিরে বাংলায় মহিলাদের ভোটযুদ্ধ তুঙ্গে”
ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির বন্যা—মহিলাদের মন জয়েই রাজনৈতিক দলগুলির শেষ ভরসা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়াঃ
রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জোরদার হচ্ছে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা কেন্দ্রিক ভোটযুদ্ধ। একসময় শাসকদলের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষীর ভান্ডার’-কে ‘ভিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করেছিল বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি। কিন্তু ভোটের মুখে সেই একই মডেল অনুসরণ করে এবার ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি সামনে আনতেই তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে।
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভিযোগ, লক্ষীর ভান্ডারের সাফল্যেই অনুপ্রাণিত হয়ে বিজেপি এখন একই পথে হাঁটছে। তাদের দাবি, এই প্রকল্প ইতিমধ্যেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করেছে এবং সরাসরি উপকার পৌঁছে দিয়েছে সাধারণ পরিবারে।
অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা দাবি, তাদের ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প শুধুমাত্র ভাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং মহিলাদের জন্য আরও বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা, উন্নয়নমূলক সুবিধা এবং আর্থিক শক্তি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। তাদের মতে, এটি একটি “সমগ্র উন্নয়নমূলক প্যাকেজ”।
এই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-ও। কংগ্রেস ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য মাসিক ২০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে। তাদের বক্তব্য, বর্তমান প্রকল্পগুলির তুলনায় এই প্রস্তাব সরাসরি গৃহস্থালির ব্যয় সামলাতে আরও কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে মহিলারা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্কগুলির অন্যতম। ফলে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই তাদের আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং স্বনির্ভরতার বিষয়কে সামনে রেখে নির্বাচনী ইস্তাহার সাজাচ্ছে।
তবে মূল প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই প্রতিশ্রুতিগুলি কতটা বাস্তবায়িত হবে, আর কতটা শুধুই ভোটের কৌশল? ভোটের আগে প্রতিশ্রুতির এই লড়াই যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত মহিলাদের আস্থা কোন দলের দিকে ঝুঁকবে, সেটাই নির্ধারণ করবে আগামী নির্বাচনের ভাগ্য।





