ট্যাংকের ভেতরে অর্ধ-পোড়া মা ও শিশুর দেহ! খুন নাকি অন্য রহস্য? বসিরহাটে চাঞ্চল্য!
সাড়ে তিন মাসের কন্যাসহ গৃহবধূর মৃত্যু ঘিরে তীব্র উত্তেজনা, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ!
বসিরহাটের সন্দেশখালি অঞ্চলে এক হৃদয়বিদারক ও রহস্যঘেরা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের মনিপুর নলপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হল অর্ধ-পোড়া অবস্থায় এক গৃহবধূ ও তার সাড়ে তিন মাসের কন্যা সন্তানের মৃতদেহ।
মৃতদের পরিচয় জানা গেছে—গৃহবধূ সুনিতা মাইতি এবং তার কন্যা শুদ্ধি মাইতি। বাড়ির ভেতরে থাকা একটি বড় ট্যাংকের মধ্য থেকে এই দুই দেহ উদ্ধার করে সন্দেশখালি থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক গভীর রহস্য—এটি কি নৃশংস খুন, না অন্য কোনো অজানা কারণ?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের অনেকেই এই ঘটনার ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছেন না।
মৃত গৃহবধূর বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে সরাসরি খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। গৃহবধূর দাদা দীপঙ্কর পাইক জানান, “বোনের কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকেই ওর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলত। সেই কারণেই ওদের পুড়িয়ে খুন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে ঘটনার পর থেকেই গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি পলাতক, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
ইতিমধ্যেই পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে আসল সত্য কী—খুন, না অন্য কোনো জটিল পারিবারিক রহস্য—তা জানতে তদন্তে নেমেছে সন্দেশখালি থানার পুলিশ। গোটা এলাকাই এখন উত্তর খুঁজছে একটাই প্রশ্নের—মা ও শিশুর এই করুণ পরিণতির নেপথ্যে আসলে কী লুকিয়ে আছে?


