ভিন রাজ্যে পাড়ি নয়, ঘরেই কাজ”—নবদ্বীপে কর্মসংস্থানের বড় প্রতিশ্রুতি বিজেপি প্রার্থী শ্রুতি-শেখরের!

“ভিন রাজ্যে পাড়ি নয়, ঘরেই কাজ”—নবদ্বীপে কর্মসংস্থানের বড় প্রতিশ্রুতি বিজেপি প্রার্থী শ্রুতি-শেখরের!

নিজস্ব সংবাদ দাতাঃ নদীয়াঃ

নির্বাচনের উত্তাপে যখন রাজনৈতিক প্রচার তুঙ্গে, তখন কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে বড় বার্তা দিলেন নবদ্বীপ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী শ্রুতি-শেখর গোস্বামী। কাজের অভাবে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া শ্রমিকদের পুনরায় নিজের এলাকায় ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন এলাকাবাসীর।
রবিবার সকাল প্রায় এগারোটা নাগাদ চর মাঝদিয়া ও চরম নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি জনসংযোগে বের হন তিনি। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাদের দৈনন্দিন সমস্যা ও অভাব-অভিযোগ। প্রার্থীর এই সরাসরি যোগাযোগে খুশি সাধারণ মানুষও।
জনসংযোগের ফাঁকেই শ্রুতি-শেখর গোস্বামী জানান, এই এলাকায় তিনি বহুবার ভাগবত পাঠ করতে এসেছেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন,
“এখানকার মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। ওপার বাংলা থেকে নিজেদের ধর্ম রক্ষার জন্য এঁরা এখানে এসেছেন। কিন্তু আজ আবার তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে। আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। আমি একজন মন্দিরের সেবাইত, মানুষের আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
এছাড়াও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন চর মাঝদিয়া ও চর ব্রহ্মনগর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের কথা। একসময় এই অঞ্চলে বহু হস্তচালিত তাঁত শিল্পীর বসবাস ছিল, যারা কাপড় বুনে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরবর্তীতে পাওয়ারলুমের আগমন ঘটলেও বর্তমানে সেই শিল্পও চরম সংকটের মুখে। ফলে বহু শ্রমিক বাধ্য হয়ে অন্য পেশা গ্রহণ করেছেন বা কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন।
এই পরিস্থিতি বদলানোর আশ্বাস দিয়ে বিজেপি প্রার্থী বলেন, তাঁত ও পাওয়ারলুম শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে স্থানীয় স্তরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে, যাতে এলাকার মানুষকে আর বাইরে যেতে না হয়।
নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে—পাঁচবারের বিধায়ক কি আবারও ষষ্ঠবারের জন্য আস্থা অর্জন করবেন, নাকি পরিবর্তনের হাওয়ায় নতুন মুখকেই বেছে নেবে নবদ্বীপবাসী? সেই উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার দিনই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *