কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড স্বপ্ন—নদিয়ার করিমপুরে এক ঝড়েই শেষ বিঘার পর বিঘা কলার বাগান!

মৈনাক দেবনাথ, নদীয়াঃ

প্রবল কালবৈশাখীর ঝড়ে এক রাতেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল নদিয়ার করিমপুর থানারপাড়া বারবাকপুর-মুরুটিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ কলার বাগান। প্রকৃতির এই অপ্রতিরোধ্য রোষে কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন এলাকার বহু কলা চাষি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় বিঘার পর বিঘা জমির কলা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বহু ক্ষেত্রে গাছ ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যায়। চাষীদের দাবি, প্রতিটি গাছকে বাঁচাতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছিল, কিন্তু ঝড়ের ভয়াবহতার কাছে সেই প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে মুহূর্তে।
চাষীরা জানাচ্ছেন, এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। তার সঙ্গে রয়েছে লাগামছাড়া দামে সার ও কীটনাশক কেনার চাপ। গাছ বড় হওয়ার পর সুরক্ষার জন্য প্রতিটি গাছে ৫০-৬০ টাকা করে খরচ করে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়। এত কিছুর পরও প্রকৃতির এক ঝটকায় সব পরিশ্রম জলাঞ্জলি দিল।
সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছেন ভাগচাষীরা। অনেকেই বিঘা প্রতি বছরে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছিলেন। এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় একদিকে যেমন চাষের খরচ তোলার উপায় নেই, তেমনি জমির মালিককে টাকা দেওয়ার চাপও মাথায়। ফলে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের দাবি, অবিলম্বে সরকারি ক্ষতিপূরণ ও আর্থিক সহায়তা না পেলে তারা সম্পূর্ণভাবে পথে বসবেন। অনেকেই ইতিমধ্যে বিকল্প জীবিকার কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর হতাশা। কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব শুধু ফসলই নয়, কেড়ে নিয়েছে বহু কৃষক পরিবারের জীবিকার শেষ আশাটুকুও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *